# যুদ্ধবিরতি ভাঙার দায় যুক্তরাষ্ট্রের, প্রতিশ্রুতি রেখেছে তেহরান: ইরানের দাবি

- Link: https://channelone.news/%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%af%e0%a7%81/
- Published: ২০২৬-০৭-১১T১৮:৫৮:০০+০৬:০০
- Author: admin

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত মেনেই চলেছে তেহরান—এমন দাবি
করেছে ইরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্প** হঠাৎ করেই যুদ্ধবিরতি শেষ
করার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছেন বলে অভিযোগ দেশটির।

![Advertisement](https://channelone.news/wp-content/uploads/2026/10/NAG_300X250.
png)

শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী **আব্বাস আরাগচি** বলেন, সমঝোতা 
স্মারক অনুযায়ী ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ
শর্ত ভঙ্গ করেছে।

গত মাসের মাঝামাঝি ‘ইরান যুদ্ধ’ অবসান এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজতে 
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। এরপরও পুরোপুরি থামেনি হামলা-পাল্টাহামলা।
উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

এর মধ্যেই গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন।
যদিও একই সময়ে তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মতি জানান। এই পরস্পরবিরোধী
অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও তলানিতে ঠেলে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার
সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম **ট্রুথ সোশ্যালে** ট্রাম্প আরও কড়া বার্তা দেন।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, **ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণভাবে
ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।**

একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত
হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনেও ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন,**‘
তাদের সঙ্গে আলোচনা বা যোগাযোগ করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।’**

এর জবাবে আব্বাস আরাগচি বলেন, সমঝোতা স্মারকের **৯ নম্বর অনুচ্ছেদ** যুক্তরাষ্ট্রই 
লঙ্ঘন করেছে। ওই শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান
পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা
দেবে না এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করবে না।

আরাগচির ভাষায়, **‘চুক্তি টিকিয়ে রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই সমানভাবে প্রতিশ্রুতি পালন
করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থী।’**

গত মাসের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আর কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে ইরানি
সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যস্থতাকারী দেশ **কাতারের**
একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সুইজারল্যান্ডে এক দফা সরাসরি এবং কাতারে পরোক্ষ আলোচনা
হলেও এরপর কূটনৈতিক অগ্রগতির আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে 
যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
