# সুনামগঞ্জে কিছুটা কমেছে নদ-নদীর পানি, তবু কাটেনি বন্যার শঙ্কা; প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

- Link: https://channelone.news/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%97%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a7%87/
- Published: ২০২৬-০৭-১১T১৪:৩৩:৩৫+০৬:০০
- Author: admin

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কয়েকদিন ধরে উদ্বেগে থাকা সুনামগঞ্জে
কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। শুক্রবার দিনভর ও রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় জেলার নদ-নদীর
পানি সামান্য কমেছে। তবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় এখনই স্বস্তির সুযোগ দেখছেন
না সংশ্লিষ্টরা। যেকোনো সময় আবারও পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন
বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

![Advertisement](https://channelone.news/wp-content/uploads/2026/10/NAG_300X250.
png)

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু
করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার
সব পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর
পানির উচ্চতা ছিল **৭ দশমিক ২৪ মিটার**, যা আগের দিন একই সময় ছিল **৭ দশমিক ৩০ মিটার**।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে **৪৫ মিলিমিটার**, যেখানে এর আগের ২৪ ঘণ্টায়
হয়েছিল **৭৭ মিলিমিটার**। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিও কিছুটা
নেমেছে।

সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা মইনুল হোসেন বলেন, রাতভর বৃষ্টি কম হওয়ায়
এবং উজান থেকে ঢলও কম আসায় সুরমা নদীর পানি কিছুটা নেমেছে। তবে আবার ভারী বৃষ্টি হলে
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক জানান, আগামী দিনে 
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি বাড়লে নদ-নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে
এবং জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

### নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু, ছুটি বাতিল

সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর
ও ছাতক পৌরসভাকেও নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালুসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে।

শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)
মো. মতিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।

### আশ্রয়কেন্দ্র, মেডিক্যাল টিম ও ত্রাণ প্রস্তুত

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলার **১ 
হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র** প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় নৌযান, 
স্বেচ্ছাসেবক এবং **১ হাজার ৫৬টি মেডিক্যাল টিম** প্রস্তুত রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার ১২টি উপজেলায় **১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার**, জিআর চালসহ প্রয়োজনীয়
ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত বিতরণের জন্য অতিরিক্ত ত্রাণও মজুত রাখা
হয়েছে বলে জানান তিনি।
