Homeবাণিজ্যনতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ঢাকায় আইএমএফের ১২ সদস্যের মিশন, আলোচনায় সরকারি নতুন...

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে ঢাকায় আইএমএফের ১২ সদস্যের মিশন, আলোচনায় সরকারি নতুন বেতনকাঠামোও

Date:

Related stories

‘ফেনী ইউনিভার্সিটি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হলেন মোহাম্মদ নুরুন নেওয়াজ সেলিম

ফেনী ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন ফেনীর...

চ্যানেল ওয়ান ডিজিটালে ক্যারিয়ার গড়ুন, আবেদন করবেন যেভাবে

নিচের লিংকে ক্লিক করে গুগল ফর্মটি পূরণ করা বাধ্যতামূলক: https://forms.gle/tHb1pdvtR1rAnuw88

‘থ্রি ইডিয়টস ২’ নিয়ে নির্মাতার বড় সুখবর

বহুল প্রতীক্ষিত ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে একটি বড়...

দাম কমল এলপি গ্যাসের

বাংলাদেশের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত...

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখার...
spot_img

বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে। সপ্তাহজুড়ে সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান সংস্কার এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে তারা। আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

Advertisement

আগামীকাল রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে। একই দিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও বৈঠকে বসবে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। এবারের মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যেই গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠান অর্থমন্ত্রী।

চিঠিতে সরকার জানায়, আগের ঋণ কর্মসূচি নেওয়ার সময়কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় থাকবে অর্থনীতির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাত

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট, করছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা, আয়কর ও ভ্যাট সংস্কার, করব্যয় এবং আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

ব্যাংক খাতও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংক পুনর্গঠন, সুশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে আইএমএফ।

এ ছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এবং ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যয় নিয়েও আলোচনা হবে।

সরকারি নতুন বেতনকাঠামোর মূল্যায়ন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়েও আলাদা মূল্যায়ন করবে আইএমএফ। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা, বিদ্যমান বেতনকাঠামো, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাইবে সংস্থাটি।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানির ব্যয়, প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি, পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা এবং পুরো খাতের আর্থিক প্রবাহও বিশ্লেষণ করা হবে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, সরকারি গ্যারান্টি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দায়, ভবিষ্যৎ ঋণ গ্রহণের পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ঋণ ও বাণিজ্যিক ঋণের ভারসাম্যও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

অক্টোবরে শুরু হতে পারে আনুষ্ঠানিক আলোচনা

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরের মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকার বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, মুদ্রানীতির আধুনিকায়ন, ব্যাংক রেজোল্যুশন, আমানত সুরক্ষা আইন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, জলবায়ু সংস্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরবে।

ঢাকা সফর শেষে আইএমএফের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবরে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আবারও একটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ২০২৩ সালে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটেই এখন নতুন ঋণ কর্মসূচির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ও আইএমএফ।

Subscribe

- Never miss a story with notifications

- Gain full access to our premium content

- Browse free from up to 5 devices at once

Latest stories